11 August, 2010

সাতসপ্তাহ'র সংক্ষিপ্ত এপিজোড শেষে তোর বিদায়

........................................................................
হসপিটালের সবকিছু সাদা সাদা হয় কেনো?
আমার স্পষ্ট মনে আছে, প্রথম যেবার আমার ডেংগু হলো দেশে, বেশ অনেকদিন হসপিটালে থাকতে হয়েছিলো, তখনই প্রথম এই প্রশ্নটা মাথায় এসেছিলো। এইবার ডক যখন আমার ব্যথায় কাতর চেহারার দিকে তাকিয়ে দুঃখী দুঃখী চেহারায় বললো, "আ'ম এক্সট্রীমলি স্যরি"; তখন তুই চলে গিয়েছিস এই দুঃখ অনুভব করার পরিবর্তে আমি হঠাৎ করেই ভাবছিলাম, হসপিটালের সবকিছুর মত ডাক্তার আর নার্সরাও সাদা সাদা ড্রেস পড়ে কেনো? ব্যপারটা একটু বিভ্রান্তিকর। কারণ মানুষের কল্পনায় এঞ্জেলরাও সাদা সাদা হয়। ধর্, কোনো মানুষ হসপিটালে এসে মরে গেলো। তারপর মরার পর যখন ফেরেশতারা তার কাছে আসবে, তখন তো সে বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারে! তারকাছে মনে হবে সে তখনো হসপিটালেই আছে!

তুই কী এইসব আজগুবি চিন্তা শুনে হাসছিস? হিহিহি, তুই কী হাসবি, আমি নিজেই হাসছি। তবে সাবধান, অন্য কাউকে বলিস না, মানুষ আমাদেরকে পাগল ভাববে!
দেখ, সাত সপ্তাহেই তোর সাথে আমার কেমন দারুন বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল, যা কাউকে বলিনা, তাই কী অকপটে তোকে বলে যাচ্ছি। হাতে গুনে হিসাব করলে সাত সপ্তাহ বেশীদিন না। কিন্তু আমার কাছে দেখ মনে হচ্ছে যেনো কত্তদিন! উফ, তুই আমাকে ব্যথায় পাগল বানিয়ে ফেলেছিলি প্রায়। ব্যথার চেয়ে বড় যন্ত্রনা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো তোর বাবা, চা খেতে দিবেনা, একটু জোড়ে হাঁটতে দিবেনা, কিছুই আলগাতে দিবেনা। পুরা থানার দারোগা একটা! মাঝে মাঝে অবশ্য মজা পেতাম। তুই কি পেটের ভিতর আমার মজা টের পেতি?

মাত্র ক'দিনের তুই অদ্ভূতভাবে বদলে দিয়েছিলি তোর বাবাকে। যে কিনা নিজের প্যান্টটা পর্যন্ত মাটি থেকে তুলে রাখেনা আলসী করে, সেই কিনা ভোরে উঠে নাস্তা বানায়, অফিসে যায়, সেখান থেকে পড়তে যায়, পড়া থেকে ফিরে আসার সময় সব বাজার করে আনে, রাতে রান্না করে ঘর দোরের সব কাজ শেষ করে ঘুমুতে যায়। উইকেন্ডে যাকে আমি ঠেলেও বিছানা থেকে নামাতে পারিনা, সারাদিন বিছানায় গড়াগড়ি খায়, সেই-ই কিনা আমার আগে ঘুম থেকে উঠে সব কাপড় ধোয়, শুকাতে দেয়, ঘর ক্লিন করে। তুই কি জানতিস এই একটুশ খানি তুই কেমন বদলে দিচ্ছিলি শুধু আমাদেরকেই না, আশেপাশের সবাইকে। চাঁদ ভাবীর মা এসেছে দেশ থেকে। সেই তিনি পর্যন্ত তোর জন্য শাড়ি ছিঁড়ে কাঁথা বানানোর জন্য চাঁদ ভাবীর সাথে ঝগড়া লাগিয়ে দিলেন। ভাবীর সেকি চিল্লাচিল্লি, দেশ থেকে এত কষ্ট করে এক একটা শাড়ি আনাইছি, তুমি আছো সেই শাড়ী কেটে কাঁথা বানাইতে? সাবধান যদি আমার শাড়িতে হাত দিছো!

তুই ঐ ঝগড়া দেখলে শিউর হাসতে হাসতে শেষ হয়ে যেতি, আন্টির চেহারা যদি দেখতি! শেষে ওনাকে অনেক কষ্টে বুঝানো হয়েছিলো এখানে কাঁথার দরকার নাই, বাচ্চাদের জন্য নরম নরম কাভার পাওয়া যায়। তারপরও উনি জিদ ধরে বসেছিলেন, দেশে ফিরেই কাঁথা বানিয়ে পাঠাবেন, একটা নতুন বাচ্চা আসবে আর কাঁথা থাকবেনা এটা কী ধরনের কথা?! তোর জন্য দুঃখ লাগছে, পৃথিবীতে এসে নকশীফুল তোলা কাঁথার ওম পোহানোর আগেই চলে গেলি! প্রথম যখন বুঝেছি তুই চলে যাচ্ছিস, হাউ মাউ করে কেঁদেছি একদম। মেয়েদের অনেক সুবিধা আছে, ইচ্ছামত কাঁদতে পারে, কেউ কিছু বলেনা! তোর বাবা, চাঁদ ভাবী, চাঁদ ভাবীর মা কেউই আমাকে সামলাতে পারছিলোনা। তুই-ই বল, পুরো সাত সপ্তাহ তোর জন্য এত কষ্ট করলাম, সেই তুই এইভাবে চলে গেলে না কেঁদে থাকতে পারি?

এই সাত সপ্তাহ'র কিছু কাহিনী শোনাই তোকে। আমি তো নড়তে চড়তে পারিনা। সবাই বলে অস্ট্রেলিয়ায় যারা অন্যদেশ থেকে আসে তাদের প্রথম বাচ্চা ৬৫% ক্ষেত্রে মিসক্যারেজ হয়ে যায়। সেই ভয়ে আরো বেশী নড়িনা। সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করতে হবে তাই ইউনি যাওয়াও মোটামোটি বন্ধ। তুই-ই চিন্তা করে দেখ আমার অবস্থাটা! যে মেয়ে কিনা সুস্থির মত এক জায়গায় বসেই থাকতে পারে না, সেই-ই কিনা এমন জড়বস্তুর মত পরে আছে তোর জন্য! কী আর করবো, তোকে বই পড়ে শোনাই। পিএইচডি'র পড়া পড়ি শুয়ে শুয়ে। নতুবা নেটে ব্লগিং করি, দুনিয়ার নিউজ পড়ি। শেষে একদিন তোর বাবা বললো, এত পড়লে তো সমস্যা!
আমি অবাক, বললাম, কেনো? শুয়ে শুয়ে আর কী করবো? পড়লে সমস্যা কী?
তোর বাবা খুব গম্ভীর গলায় বলে, দেখো, তুমি এমনিতেও যে পরিমাণ পড়ুয়া, তারউপর এখন যদি এইভাবে পড়তে থাকো, তাহলে পুচকা তো বের হয়েই গন্ডগোল লাগায়ে দিবে!
আমি ঠিক বুঝলাম না, অবাক হয়ে বললাম, কী গন্ডগোল লাগাবে??
তোর বাবা কী বলে জানিস? বলে, "সব বাবু পেট থেকে বের হওয়ার পর ডাক্তাররা বাবুকে উলটা করে পিঠে থাপ্পড় মারে যেনো বাবু কান্না করে। আমাদের বাবুকে থাপ্পড় মারলে তো বাবু উলটা ডাক্তারকে ধমক দিয়ে উঠবে, বলবে, আমাকে থাপ্পড় মেরে বিরক্ত করছেন কেনো?? ডাক্তার অবাক হয়ে তখন বলবে, বিরক্ত করছি মানে? তখন বাবু বলবে, দেখছেন না আমি চিন্তা করছি, আপনি থাপ্পড় মেরে আমার চিন্তায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন! ডাক্তার তখন আরো অবাক হয়ে বলবে, কী চিন্তা করছো তুমি? বাবু তখন বলবে, আরে চিন্তার অভাব আছে? আমি চিন্তা করছি পৃথিবীতে এখন কী কী হচ্ছে এবং কেনো হচ্ছে!"

হাহাহাহাহাহাহাহা! তোর বাবার বলার ধরণ দেখে আমি হাসতে হাসতে খুনই হয়ে যাচ্ছিলাম! হিহিহিহহিহি, তুই নাকি বের হয়েই চিন্তা করতে শুরু করবি!! খিকয! অবশ্য এটা ঠিক তুই পৃথিবীতে আসলে স্কুলে যাওয়ার আগে ইউনিভার্সিটিতে যেতি। কারণ তোকে ডে-কেয়ারে দিবোনা সে তোর বাবা আর আমি আগেই ভেবে রেখেছিলাম। অতএব উপায় একটাই, তোকে আমার সাথে ইউনিতে নিয়ে যাওয়া। তুই ইউনিতে গেলে দেখতি, কী বি-শা-ল পড়ার জায়গা। আমি ঠিক করেছিলাম তুই হওয়ার পর তোর বাবাকে কোনো না কোনোভাবে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে একটা প্রফেশনাল ক্যামেরা আদায় করে নিবো, যেটা দিয়ে জুম ইন-আউট করে, আরো অনেক রকম কায়রতি করে ছবি তোলা যায়। তোকে তারপর আমার ইউনির লাইব্রেরীতে নিয়ে ছেড়ে দিবো। লাইব্রেরীতে বইয়ের থাকের সারির মাঝখানে তোর ফটোসেশান! কেমন মজা হতো না? বিশাল বিশাল বইয়ের থাক, তার মাঝখানে তুই হামাগুড়ি দিচ্ছিস! ব্যপারটাতে একটা আয়রনি আছে। আমরা ছোট-বড় সব মানুষরাই আসলে জ্ঞানের জগতে সবসময় হামাগুড়ি-ই দেই। তোর ঐরকম ছবিটার একটা তাই গাঢ় মিনিং থাকতো।

লাষ্টবার যখন ডক'র কাছে গেলাম, জিজ্ঞেস করেছিলাম তুই কতটুকু হয়েছিস। ডক বলেছিলো, হাতের বুড়া আংগুলের নখের সমান! কী আশ্চর্যজনক, না? তোর নাকি এতদিনে হার্টবিটও চলে এসেছে। সবাই আমার উত্তেজনা দেখে হাসে। তুইই বল, উত্তেজিত না হয়ে উপায় আছে? পেটের ভিতর বুড়া আংগুলের নখের সাইজের সমান তুই, তোর হার্টবিট, ভাবতেই অন্যরকম লাগে। ছোটবেলায় একটা সময় ছিলো যখন মেয়ে কেনো হয়েছি, তাই নিয়ে খুব আফসোস হতো। আল্লাহ'র উপর ভীষণ রাগ হতো আমাকে মেয়ে কেনো বানিয়েছে! ইউনি'তে উঠতে উঠতে সে আফসোস চলে গিয়েছিল। উলটো তখন খুব খুশী ছিলাম মেয়ে হয়েছি বলে। হিহিহি, কেনো জানিস? আমাদের দেশের কনটেক্সটে মেয়ে হলে খুব সুবিধা বুঝলি। সে অন্য প্রসংগ। যেদিন ডক বললো, ছয় সপ্তাহে বেবি'র হার্টবিট শুরু হয়, সেদিন নতুন করে আনন্দ লেগেছিল মেয়ে হওয়ার জন্য। তোর বাবা কখনোই এই আনন্দটুকু পাবেনা; নিজের ভিতর, নিজের রক্ত-মাংসে-নিঃশ্বাসে নতুন একটা প্রাণকে একটু একটু করে অস্তিত্বে আনার আনন্দ!

ততদিনে জড়বস্তুর মত খুব আস্তে ধীরে নড়াচড়া করা আয়ত্ব করে ফেলেছি। তুই ওম-দেয়া মা-মুরগী দেখেছিস? ওহ, তুই কোথথেকে দেখবি, তুইতো পৃথিবীতে আসার আগেই চলে গেলি। মা মুরগীর যখন অনেকগুলো কুটলো-মুটলো টাইপ ছোট ছোট ছানা-মুরগী হয়, ছানাগুলো মা-মুরগীর পায়ে পায়ে সারাক্ষণ ঘুরঘুর করে। আর মা-মুরগী দুই পাখনা ফুলিয়ে ওম দেয় ছানাগুলোকে।সারাক্ষন পাখনাদু'টো দুপাশে ফুলিয়ে ঢোল করে রাখে, ছানাগুলো একটু ভয় পেলেই দৌঁড় দিয়ে সুরসুর করে মা মুরগীর পাখনার ভিতর ঢুকে যায়। মা-মুরগী তখন হেলেদুলে আস্তে ধীরে হাঁটে। তোর বাবা আমার হাঁটা দেখে বলতো আমার অবস্থা নাকি ওম-দেয়া মা-মুরগীর মত! হিহিহি, রাগ করতাম না, উলটা আসলেই নিজেকে সেইরকম মনে হতো। মনে হতো যেনো একটু জোরে হাঁটলেই পেটের ভিতর তুই যদি ভেংগে যাস? তোকে ততদিনে ভালবাসতে শুরু করেছিলাম, তাই চাইতাম না তোর কোনো ক্ষতি হোক। নিজে নাহয় এই ক'দিন নাইবা দৌঁড়াদৌঁড়ি করলাম। তারচে' তোর বাবাকে ক্ষেপাতাম, তুই যখন আসবি, তোকে আমি পাংকু-বেবি বানাবো। ছেলে হোস বা মেয়ে, নো প্রবলেমো, তোর চুল স্পাইক করে, ঐ যে দুই-কালারের হাতা-ওয়ালা কতগুলা টি-শার্ট আছেনা? যেগুলোর কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত এক কালার, কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত আরেক কালার; ঐ রকমের দুইটা শার্ট কিনবো, একটা বড়, যেটা পড়বো আমি, আরেকটা ছোট যেটা পড়বি তুই! ব্যাগি প্যান্ট পড়ে তুই একদম একশান! তোর বাবার চেহারা যদি দেখতি, হিহিহিহিহি, হাঁ করে আমার মুখের দিকে তাকায়ে বলতো, প্রেগন্যান্সিতে যে মাথার তার ছিঁড়ে যায় এটাতো জানতাম না!

মুখে যতই তোর বাবাকে হাবিজাবি বলে আঁতকে দেইনা কেনো, তোকে নিয়ে মাঝে মাঝে টেনশানও হতো। আমি ঠিক নিশ্চিত ছিলাম না তোকে কোন পৃথিবীতে আনছি। দেখ, পৃথিবীতে প্রতিদিন কত বাবু আসছে, কত মেয়ে নতুন করে প্রেগন্যান্ট হচ্ছে; সবাইকে দেখে আমার অবাক লাগে জানিস, কারো কোনো টেনশান নাই। কিন্তু তোকে নিয়ে আমি টেন্স ছিলাম। সেদিন আমাদের পিএইচডি'র এক ওয়ার্কশপে কোন এক আবহাওয়াবিদ না কী যেন এসেছিলেন অতিথি গেষ্ট হিসেবে। গ্রাফ-টাফ দিয়ে, মাটির ভিতরের, পৃথিবীর বাইরের অনেক কিছুর ছবি-টবি দিয়ে এক ঘন্টার লেকচার যখন শেষ করলেন, আমি তখন রুম থেকে বের হয়ে রীতিমত ভয়ে কাঁপছিলাম। আমরা সাধারণ মানুষরা কত নির্ভয়ে কত আনন্দে আছি, কিন্তু পৃথিবীটা দ্রুত, খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গ্রীন-হাউজ ইফেক্ট যতটা দ্রুত পৃথিবীর উপর নেগেটিভ প্রভাব ফেলার কথা, তারচেয়ে হাজারগুন দ্রুত প্রভাব ফেলছে। বরফ গলে যাচ্ছে, সমুদ্রের উচ্চতা বাঁড়ছে, আবহাওয়া এক্সট্রিম হয়ে যাচ্ছে। গ্রীষ্মে রোদ আর শীতে ঠান্ডার মাত্রা বাড়ছে। আমি তো এই বিষয়ে পড়ালেখা করিনি, তাই ওদের মত করে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর বিষয়টা বুঝাতে পারবোনা তোকে। কিন্তু যতটুকু জ্ঞান আছে, তাতে ঐ লেকচার থেকে বুঝতে পেরেছিলাম, এখন পৃথিবীর বিশ্ব-রাজনীতি'র চেয়েও মারাত্নক ইস্যু পরিবেশ, যে পরিবেশ প্রতি সেকেন্ডে ম্যারাথন গতিতে পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

ক'দিন আগে একটা মুভি বের হয়েছে, ২০১২। ঐ লেকচার শোনার পর মনে হচ্ছিলো, এইরকম কিছু একটা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। ক'দিন আগেই নিউজে পড়েছি, আফ্রিকার মরুভূমির ভিতর দিয়ে নতুন মহাসাগর সৃষ্টি হচ্ছে। তুই-ই বল, এমন একটা পৃথিবীতে তোকে আনতে গিয়ে টেনশান না করে উপায় আছে? আর ধর, তোর জেনারেশান যদি কোনোরকমে এই পরিবেশ-ইস্যু পার করেও দিস, তাও তো পৃথিবীটা ঠিক বেঁচে থাকার জন্য তেমন নিরাপদ না। তোকে কত কিছুর সাথে যে যুদ্ধ করতে হবে! এইসব যুদ্ধ কামান-বন্দুক নিয়ে যুদ্ধ করার চেয়েও মারাত্নক। তোকে এই পৃথিবী তোর বেসিক হিউম্যান রাইটস-ই দেবেনা! তোর প্রতিটা অধিকারের জন্য তোকে যুদ্ধ করতে হবে। আমি অন্য মা'দের মত না, যারা ভাবে সন্তান নিজে বেঁচে-খেয়ে ভাল থাকুক। আমি চাই তুই তোর চারপাশের সবাইকে নিয়ে ভাল থাক, পৃথিবীকে নিয়ে ভাল থাক। এই যে আমার চাওয়াটা, আমি কিন্তু তোর উপর এই চাওয়াটা চাপিয়ে দিবো। শুধু আমি না, তোর বাবা তার ইচ্ছা চাপাবে তোর উপর। সমাজ চাপাবে, দেশ চাপাবে। কত রকমের যে প্রেসারের মধ্য দিয়ে তোকে বড় হতে হবে! এইসব ভেবে আমার ক্লান্তি লাগতো। কাউকে বলতাম না। কারন কাউকে বললেই তো পাগল ভাববে। বলবে, পৃথিবীতে কী তুমি একাই মা হতে যাচ্ছো?? কী জানি, আমি হয়তো অন্য মা'দের মত না। আর সেজন্যেই কী তুই রাগ করে চলে গেলি নাকি?

তুই রাগ করে চলে গিয়েছিস কিনা জানিনা, তবে আমি কিন্তু তোর উপর খুব রেগে গিয়েছিলাম। যখন শুনলাম, তোর জন্য আমাদের স্নো-মাউন্টেনে যাওয়ার প্রোগ্রামটা বাতিল হয়ে গেছে! রাগ না করে উপায় ছিলো? তুই-ই বল! ছোটকাল থেকে শখ স্নো পড়া দেখবো। বাতাসে তুলোর মত নরম নরম আলতো বরফ পড়বে, আর সেই বরফে আমি দুই হাত ডানার মত ছড়িয়ে দিয়ে সাঁ-ই-ই-ই করে দৌঁড়াবো! তোর বাবারও স্নো পড়া দেখার খুব শখ। কিন্তু বিয়ের পর বউ নিয়ে বরফ পড়া দেখবে তাই নিজেও এতদিন দেখেনি। সিডনীতে সাধারণত বরফ পড়েনা। শীতকালে তাই সবাই স্নো-মাউন্টেন যায় বরফ পড়া দেখতে। গতবছর যাওয়া হয়নি, এইবছর কত আয়োজন করে চার-পরিবার মিলে দিন-ক্ষণ ঠিক হলো, ওম্মা, তোর বাবা পুরা বেঁকে বসলো! ওখানে গিয়ে আমি লাফালাফি করলে তোর নাকি ক্ষতি হবে! কত করে বুঝালাম, আমি লাফাবো না, দৌঁড়াবো না (হিহিহি, মিথ্যা কথা, গেলে ঠিকই দৌঁড়াতাম, তোর জন্য এমন আজন্মের স্বপ্ন পূরণ করবোনা, পাগল নাকি? আমি জানি, আমি দৌঁড়ালেই বরং তুইও খুশী হতি! শত হলেও আমার রক্তের ভিতরেই তো তোর বসবাস ছিলো!); কিন্তু তোর বাবা না একটা আস্ত শয়তান, কথাই শুনেনা। তোর উপর তখন আমার ভীষণ রাগ হয়েছিল। আমরা যাইনি, তাই অন্যরাও কেউ যায়নি! যে তোর জন্য আমাদের বরফ দেখতে যাওয়া হলোনা, সেই তুই-ই শেষপর্যন্ত নিজেই কোথায় চলে গেলি!

আরেকদিন রাগ করেছিলাম তোর উপর। আসলে ঠিক তোর উপর না, নিজের উপর। ভেবে পাচ্ছিলাম না দেশে গ্রামে-গঞ্জে, এমনকি শহরেও অনেক পরিবারে মেয়েরা প্র্যাগনেন্সি'র সময় ঠিক মত খাওয়া পায়না, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি ননদ- ননসরা কত জালায়, এমনকি মারধরও করে, রাতদিন কাজ করায়, তারপরও তো কই, ওদের তো ঠিকই বাচ্চা ঠিক ঠিক হয়! তোর জন্য কেনো তাহলে আমাকে এত্ত বেশী বেশী সাবধান থাকতে হবে? জানিস ঐ মেয়েদেরকেই আমার কাছে আসল মেয়ে মনে হয়, আর আমাদেরকে মনে হয় ফার্মের মানুষ! ওরা কতকিছুর পরও টিকে থাকে, যেন বটগাছের মত, ঝড়-ঝাপটা সব পিশে দিয়ে গেলেও ঠিকই দাঁড়িয়ে থাকে মাথাটা সোজা করে; আর আমরা এত্ত ভংগুর! একটু টোকা দিলেই লটর পটর করে ভেংগে যাই! সেদিনের রাগটা অবশ্য কারো উপর ঝাড়তে না পেরে তোর সাথেই কিছুক্ষন গজ গজ করেছিলাম। তুই মনে হয় টের পেয়েছিলি। তাই এখন এমন ফাঁকি দিয়ে চলে গেলি।

তবে একটা মজার কথা কী জানিস? হাউ মাউ করে কাঁদলাম। হস্পিটালে ব্যথায় কোঁকালাম, মরফিনের ঠেলায় বেঁহুশের মত ঘুমালাম। কিন্তু বাসায় এসে প্রথম কাজ কী করেছি জানিস? এক কাপ গরম গরম ধোঁয়া উঠা চা খেয়েছি, ইশ, পুরো সাত সপ্তাহ পর! সত্যি বলতে, তখন যা আরাম লেগেছিল। ঐ এক কাপ চায়ের জন্যেই তোর চলে যাওয়াটা যেনো আমি মাফ করে দিতে পারি! তুই কি ভাবছিস আমি কত নিষ্ঠুর? নারে সোনামানিক, মানুষ এমনই। তুই পৃথিবীতে আসলে দেখতি, কত ঠুনকো জিনিষ আমাদের কাছে কত গুরুত্বপূর্ণ, কত হাস্যকর ফালতু বিষয়ে মানুষ এমনকি একজন আরেকজনকে খুন করে ফেলে, দেশে দেশে যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়; আবার কত মারাত্নক গুরুত্বপুর্ণ বিষয় আমরা অবহেলায় ফেলে রাখি, তাকিয়েও দেখিনা। তুই যদি মানুষ হয়ে পৃথিবীতে আসতি, তাহলে হয়তো বুঝতি।

কিন্তু ধোঁয়া উঠা এক কাপ গরম চা খাওয়ার আরামটা চলে যাওয়ার পর থেকে তোর জন্য আবার বুকটা কেমন খালি খালি লাগছে। সাত সপ্তাহ, হাতে গুনলে ক'টা মাত্র দিন, এ ক'দিনেই মানুষ কী করে পারে কাউকে এমন করে অনুভব করতে? তুই চলে যাওয়ার পরও এখনো হঠাৎ করে বসা থেকে দাঁড়াতে গিয়ে অজান্তেই হাত পেটে চলে যায়, যেনো ওখানে তুই আছিস, তোর উপর যেনো আচমকা টান না লাগে। অনেক অনেকদিন পর আজকে বিকেলে একলা একলা হাঁটতে বের হলাম। ঝির ঝির বৃষ্টি হচ্ছে আজকে সারাদিন। বৃষ্টি আমি বরাবরই ভালবাসি। কিন্তু আজকে এক ফোঁটা আনন্দ লাগেনি। চোখে মুখে বৃষ্টির ছিটা পড়তে পড়তে সারাটা হাঁটা জুড়ে শুধু তোকেই ভাবছিলাম। ভেবেছিলাম একদিন তুই পৃথিবীতে এসে আমার কড়ে আংগুল ধরে এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবি থপাস থপাস পা ফেলে! আশেপাশের মানুষ হাঁটার গতি কমিয়ে তোর নতুন নতুন হাঁটতে শেখা দেখে হাসবে। তোর গালে আলতো করে টিপে দিয়ে, চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে আদর করে দিয়ে যাবে। তুই হাঁটতে হাঁটতে পড়ে যাওয়া সামলে নিতে আমার হাঁটু জড়িয়ে ধরবি। আমি তখন তোকে কোলে নিয়ে বলবো, অনেক হেঁটেছিস, আর হাঁটতে হবেনা!

তোর নানা-নানী, দাদা-দাদী কত আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে ছিলো। তোর বাবা, আমি… সবাই। তোর যাওয়াটা আমাকে নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে, পৃথিবীতে আমাদের আসা-যাওয়াটা কত ইনসিগনিফিকেন্ট, তুই সাত সপ্তাহে চলে গেছিস, আমরা হয়তো আরো কিছুদিন থেকে যাবো। কিন্তু সেইতো যাওয়াই লাগে। ফুয়াদ মারা যাওয়ার পর প্রায়ই ভাবতাম, মানুষ কোথায় যায়? কোরান'এ মৃত্যুর পরের কথা যে সামান্য ইংগিতটুকু দেয়া হয়েছে, তাও বেশীরভাগ মেটাফোর দিয়ে বলা; আর কোরানের বাইরের গুলো বেশীরভাগ হুযুরদের বানানো মানুষকে ভয় দেখাতে। আমরা যারা বেঁচে আছি, আমরা আসলে কেউই জানিনা তোরা কোথায় যাস, কীভাবে থাকিস; আমরা শুধু প্রিয়জনদের জন্য আকাঙ্ক্ষা করতে পারি, যেন তুই-তোরা সবাই যেখানেই থাকিস ভাল থাকিস।

15 comments:

  1. অসাধারণ লিখেছো আপু। তোমার হাতে যাদু আছে। গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের অনুভুতি এত সহজভাবে প্রকাশ করতে আমি আগে কখনো দেখিনি। May Allah bless you.

    ReplyDelete
  2. agree with "আমরা শুধু প্রিয়জনদের জন্য আকাঙ্ক্ষা করতে পারি, যেন তুই-তোরা সবাই যেখানেই থাকিস ভাল থাকিস"

    সুন্দর লিখেছেন।

    ReplyDelete
  3. :'(

    আমরা যারা বেঁচে আছি, আমরা আসলে কেউই জানিনা তোরা কোথায় যাস, কীভাবে থাকিস; আমরা শুধু প্রিয়জনদের জন্য আকাঙ্ক্ষা করতে পারি, যেন তুই-তোরা সবাই যেখানেই থাকিস ভাল থাকিস।

    খুব খারাপ লাগছে। আল্লাহ আপনার সহায় হোন। :(

    ReplyDelete
  4. প্রথমে লেখাটা পুরোটা পড়ে দেখবার সাহস করে উঠতে পারছিলাম না। অল্প অল্প করে সাহসের সঞ্চয় করে পড়ে ফেললাম। পড়তে শুরু করার আগে থেকেই মনটা ভীষণ খারাপ ছিল। এখন কোনও কারণ ছাড়াই একটু কাঁদার বিলাসিতা হচ্ছে কিন্তু তাও পারছিনা হয়তো একটা ছেলে বলেই ... মেয়ে হলে আসলেই অনেক সুবিধা মাঝেসাঝে ...

    ReplyDelete
  5. দুঃখজনক। আল্লাহ আপনাকে শোক সহ্য করার শক্তি দিন।

    ReplyDelete
  6. Once you gave me a great comment when i wrote a mail expressing my feelings there, after returning from Rangamati,Shubholong Falls, don't know whether you can remember that.But, it's my turn to say you something after reading your wonderful writing. There must be a good poet inside you as you see things around you...

    ReplyDelete
  7. pura lekhata ektane pore fellam apu. advut likhecho!!
    porte giye mone hoccilo amio tomar "ma" rupi sottar sathe sontaner valobasai ekatto hoye geci....

    ReplyDelete
  8. saradin khali kandish naki? taile mair khabi. porashonar matra baray de. cha kha issa moto. manusher er theke boro kosto thake re.

    ReplyDelete
  9. ‎"ভেবেছিলাম একদিন তুই পৃথিবীতে এসে আমার কড়ে আংগুল ধরে এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবি থপাস থপাস পা ফেলে! আশেপাশের মানুষ হাঁটার গতি কমিয়ে তোর নতুন নতুন হাঁটতে শেখা দেখে হাসবে। তোর গালে আলতো করে টিপে দিয়ে, চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে আদর করে দিয়ে যাবে। তু...ই হাঁটতে হাঁটতে পড়ে যাওয়া সামলে নিতে আমার হাঁটু জড়িয়ে ধরবি। আমি তখন তোকে কোলে ...নিয়ে বলবো, অনেক হেঁটেছিস, আর হাঁটতে হবেনা!"........

    সত্যিই আমি কেঁদে ফেললাম!!! মামা তুই কবে আসবি??? বল তুই কবে আসবি!!! মামা-ভাগ্নে মিলে সারাবিশ্ব ঘুরে বেড়াবো!!! বাঁদরামী করে তোর মাকে জ্বালিয়ে মারবো!!! আমারও যে কত্তো স্বপ্ন!!!...... :'(

    ReplyDelete
  10. সবাইকে কমেন্ট এবং স্বান্তনার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
    ব্লগ জগতে এই জিনিষগুলো বেশ উপভোগ করার মত, কাউকে কেউ চিনিনা (কয়েকজন ছাড়া), তারপরও আমাদের অনুভূতি-দুঃখ-কষ্ট-আনন্দ আমাদেরকে অচেনা থাকার পরও মানুষ হিসেবে অনেক কাছে এনে দেয়। মোফাজ্জাল হোসাইন আরাফাত, জ্বী, মনে আছে :)

    ReplyDelete
  11. এই পোস্টটা পড়েই ফোন করেছিলাম, কিন্তু সাহস হয় নি এটা নিয়ে কথা বলার! তুমি ভালো থেকো, ভালো লাগলে এসো একদিন। তোমার ভালো লাগতেও পারে। দোআ রইলো।

    ReplyDelete
  12. আল্লাহ আপনাকে সহ্য করার তৌফিক দিন - আমীন।
    ইনশাআল্লাহ প্রতিটা দুঃখের বিনিময়ে পরকালে আপনি পুরষ্কার পাবেন।
    --
    আমি এরকম মানুষকেও চিনি যিনি দুই-দুইবার এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তারপরো বেঁচে আছেন, নতুন করে স্বপ্ন দেখে যাচ্ছেন।
    --
    ডাক্তারের সাথে কাইন্ডলি ভালোভাবে কথা বলেন, কি কারণে বিপদ ঘটতে পারে, সেগুলো জেনে নিন। দরকার হলে নিজের যেকোন হ্যাবিট (হোক সেটা ফুড বা লাইফ-স্টাইল বা অন্যকিছু) বদলাবার চেষ্টা করেন। আর কি... আমারচেও হয়তো আপনি ভালো জানেন - আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কিছু হয় না, মানুষ হিসেবে আমাদের দৌড়টা কেবল 'চেষ্টা' পর্যন্তই।
    --
    আল্লাহ আমাদের সবার সহায় হোন।
    শফিক।

    ReplyDelete
  13. আপনার লেখাটা পড়ে মন খারাপ হলো। অসাধারণ লিখেছেন আপনি। যে কাউকে স্পর্শ করবে এই লেখনি।
    ভালো থাকুন।

    ReplyDelete
  14. মানুষ হয়ে জন্মেছি বলে ছোটবেলায় খুব রাগ হত। পাখি হলে ত উড়তে পারতাম! একটু বড় হয়ে বুঝলাম মানুষ হবারও কিছু সুবিধা আছে। কোন অনুভুতি এত গভীরভাবে অনুভব করতে একমাত্র মানুষই হয়ত পারে। মেয়ে নই বলে কোনদিনই হয়ত জানতে পারব না আপনার কষ্ট আসলে কতটুকু। কিন্তু এই লেখাটা ত পড়তে পারছি। ভাল থাকুন।

    ReplyDelete

এ যাবত সর্বোচ্চ পঠিত লেখা-

ছড়া-কবিতা নিয়ে কিছু কথা...

এই ব্লগে "ছোটদের জন্য সংগৃহীত ছড়া/কবিতা" লেবেলে যে ছড়া-কবিতাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে (হচ্ছে) তা আমার ছোটভাই ফুয়াদ আমিনের নামে উৎসর্গ করা হলো; যে আমাকে ছড়া বলতে শিখিয়েছিল। যাকে ছড়া শোনাতে শোনাতে নিজেই একসময় ঘুমিয়ে যেতাম! কারেন্ট চলে গেলে আম্মুর রুমে খাটের পাশের জানালা দিয়ে আসা চাঁদের আলোয় যে 'আয় আয় চাঁদ মামা' শুনতে শুনতে চাঁদের দিকে আংগুল তুলে অবাক চোখেমুখে বলতো 'তাদ! তাদ!' চাঁদের বুড়ির চরকি কাটার গল্প শোনা ফুয়াদ অবশেষে একদিন নিজেই কেমন করে যেন চাঁদের দেশে চলে গেলো... ফুয়াদ চলে গেলেও আজকের এবং আগামীর সব শিশুরা চাঁদ, আকাশ, ফুল, পাখি আর ছড়ার মেলায় হুড়াহুড়ি করে বেড়ে উঠুক, এটাই প্রত্যাশা...

ছড়া-কবিতার সংগ্রহে বিশেষ কৃতজ্ঞতায়- তারিক রিদওয়ান, বিবেক, সোহায়লা, জিপসী, তরংগ এম ইসলাম, ভাষ্কর চৌধুরী, তুষার কন্যা, তাহসিনা সাঈদা মুন আপু, সাদিয়া হোসাইন, নাজনীন সুলতানা, মামুন এম আযিয, ওস্তাদের ওস্তাদ, মঈন উদ্দীন জাহিদ, নাজলা আপু, ভবঘুরে ঝড়, আলোর ছটা, রেহনুমা ম্যাডাম, আব্দুল্লাহ মাহমুদ নাজিব, Zareen Firdegar.

অনুরোধঃ ছড়াগুলোতে বানান ভুলের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। ছড়াকারদের নাম পাওয়া যায়নি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। যাদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হয়েছে মূলতঃ তাদের স্মৃতি থেকেই যতটুকু যেভাবে পাওয়া গিয়েছে সেভাবেই এখানে তুলে দেয়া হয়েছে। ভুল বানান চোখে পড়লে, অথবা কোনোটির ছড়াকারের নাম জানা থাকলে কমেন্ট আকারে জানাতে পারেন। অথবা নতুন কোনো ছড়া এই সংগ্রহে দিতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন- jajaborrr@হটমেইলডটকম