12 November, 2011

“বাংলাদেশী থেকে সাবধান!”


পৃথিবীতে মাফিয়াদেরকে কে না ভয় পায়? মূলতঃ ইতালী থেকে শুরু হলেও এখন পৃথিবীতে মাফিয়াদের হাত নেই এমন দেশ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এই চরম গুন্ডা বাহিনীর এমন প্রতাপশালী হওয়ার রহস্য কী? রহস্য খুব সোজা, এই গুন্ডা বাহিনী শুরুতে স্ট্রিক্টলি ছিলো ফ্যামিলি বিজনেস। ফ্যামিলি’র বাইরে কেউ যত বড় গুন্ডাই হোক, মাফিয়াদের মধ্যে এন্ট্রি ছিলোনা। এখনো মাফিয়ারা নিজেদেরকে বলে “কোসকা” বা “ক্ল্যান”/ “পরিবার”। একবার মাফিয়া সদস্য হওয়া মানেই হলো বৃহত্তর মাফিয়া পরিবারের মেম্বার হয়ে যাওয়া। এবং এরা নিজেদের পরিবারের জন্য জান কোরবান।

আপনাদেরকে এই সাত সকালে (সিডনীতে এখন সকাল) মাফিয়াদের কাহিনী শুনাচ্ছি কেনো? কারনটা একটু পরে বলি। 
তার আগে একটু চাংকু (চাইনিজ)দের কথাও শুনাই। রেসিজমের কথা যদি বলেন, পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষ চাংকুদের প্রতি রেসিষ্ট। ইংলিশ জানেনা, খবিশ একটা জাতি –সত্যিকার অর্থেই খবিশ, নোংরা, খায়না এমন কিছু নাই; আমাদের পরিচিত এক ভাইয়া বলেন, ‘চাংকুরা পৃথিবীতে শক্তের মধ্যে লোহা আর নরমের মধ্যে মল-মূত্র ছাড়া বাকী সব খায়!’ এই খবিশ জাতিকে নিয়ে এখন পৃথিবী শংকিত। এক বিন্দু বাড়িয়ে বলছিনা। অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া তো রীতিমত চায়না-ফোবিয়ায় আক্রান্ত, মিডিয়া ফলো আপ করলে যে কেউ ভয় পেয়ে যাবে চায়না বুঝি আজকেই পৃথিবী দখল করে নিলো! এমেরিকা পর্যন্ত চাংকুদেরকে তোয়াজ করে চলে। কারণ সবাই-ই জানে এমেরিকার পর পৃথিবীর সুপারপাওয়ার হবে চাংকুরাই। সিডনী এসেতো আমি প্রথমে ভিমড়ী খেয়ে গিয়েছিলাম ভুল করে প্লেন আমাদেরকে চীনের কোনো শহরে নিয়ে আসেনিতো! চাংকুদের নিজস্ব একটা এলাকা/শহর নাই এমন কোনো দেশ নাই। বাংলাদেশে পর্যন্ত চট্রগ্রামে কাফকো’র দিকে চাংকুতে ভরে গেছে। এদের এত প্রতাপের রহস্য কী? ঐ একটাই- পরিবার এবং বৃহত্তর সেন্সে নিজের দেশের মানুষ। এক চাংকু যদি কোনো জায়গায় চাকরী পায়, এক/দুইমাসও অপেক্ষা করতে হবেনা, দেখবেন কীভাবে কীভাবে যেনো আস্তে আস্তে আরো দুই/একটা চাংকু ঢুকে গেছে!! চাংকুরা কেমন যেনো ম্যাগনেটের মত, এক চাংকু আরেক চাংকুকে চুম্বকের মত টেনে তুলে ফেলে।

দাঁড়ান, আসল কথায় আসার আগে আরেকটু বয়ান শুনাই। গ্রীকদেরকে দেখতে পারে এমন লোক খুব কম পাবেন। কারণ সত্যিকার অর্থে গ্রীকরা খুব দজ্জাল টাইপের জাতি। আমাদের এক অস্ট্রেলিয়ান ফ্রেন্ডতো গ্রীক নাম শুনলেই লাফ দিয়ে উঠে, গ্রীকদের দশ না, একশ হাতের কাছাকাছি সে নেই। এটা অস্ট্রেলিয়ায় খুব কমন। চাংকুদের পরেই গ্রীকদেরকে মানুষ এড়ায়ে চলে। কিন্তু একবার যদি কোনো গ্রীক পরিবারের সাথে মিশেন, “পরিবার” “পরিবার” শুনতে শুনতে আপনার মাথা খারাপ হয়ে যাবে! এদের বিজনেসগুলোতে দেখবেন, অলিখিত নিয়ম যেনো “অল গ্রীকস অনলি”! গ্রীকদের বিজনেস/দোকান-পাটে গ্রীক ছাড়া অন্য কাউকে চাকরি করতে এই পর্যন্ত অন্ততঃ আমি কোথাও দেখিনি। স্ট্রিক্টলি ফ্যামিলি অরিয়েন্টেড একটা জাতি।

কাহিনী যদি শুনাতে চাই তাহলে এইরকম আরো অনেকগুলা কাহিনীই শুনাতে পারবো। বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি। এই মাফিয়া, চাংকু আর গ্রীকদের এত কথা কেনো শুনালাম? কথা একটাই, পরিবার এবং বৃহত্তর সেন্সে নিজের দেশের মানুষ। মাফিয়া, অথবা চাংকু অথবা গ্রীক, যার কথাই বলেন, এরা সব রসুনের মত। কোয়া কোয়া, কিন্তু সবগুলার পাছা এক জায়গায় লাগানো- কথাটা শুনতে বিশ্রী, কিন্তু খুবই বাস্তব সত্য। এবং এটাই হলো এদের উন্নতি বলেন, অগ্রগতি বলেন তার মূল রহস্য। একটা চাংকু বা গ্রীক যেখানে আছে, সেখানে আস্তে আস্তে কেঁচকি মাছের মত দেখবেন একটা দুইটা করে আস্তে আস্তে অন্য চাংকু আর গ্রীকটা ঢুকে যাচ্ছে।

এবার আমাদের কথায় আসি। এই লেখার ইন্সপায়রেশান অতি সম্প্রতি সিডনী আসা এক বাংলাদেশী ভদ্রলোক, যিনি তার বউ বাচ্চাকে স্টিক্টলি বলে দিয়েছেন “সাবধান! বাংলাদেশী থেকে সাবধান!” সাবধানের মাত্রা এতই ব্যাপক যে বাংলাদেশীদের দশহাতের ভিতর যেন বউ বাচ্চা না ঘেঁষে সেই ব্যপারে তিনি অত্যন্ত সজাগ। ভদ্রমহিলা যেখানে যান পাশে যদি কোনো বাংলাদেশী এসে বসে তাহলে তিনি আস্তে করে উঠে যান, তার নিজের মুখ থেকে শোনা। গর্ব করে বলছিলেন তার বাচ্চাকেও তিনি বাংগালী/বাংলাদেশী কোনো বাচ্চার সাথে খেলতে দেননা। বাচ্চার বাবা রাগ করবে যে!

জাতিগতভাবে আমাদের দেশের মানুষগুলো সহজ সরল হলেও, এরা অধিকাংশই বজ্জাত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সত্যি কথা তিতা হলেও সত্য। শোনা কথা শোনা যায় অস্ট্রেলিয়ায় পুলিশকে প্রথম ঘুষ সেঁধেছিলো এক বাংলাদেশী!! দুনিয়ার প্রচুর দুই নাম্বারীতে চাংকুদের পরেই বাংলাদেশীদের নাম বেশ প্রচলিত এখানে। হ্যা, ভাই, আমাদের দেশের মানুষ খারাপ, ঠিক আছে মানলাম। ভাই, দুনিয়াতে কোন জাতিটা খারাপ না? আমাকে দেখান পৃথিবীতে কোন জাতি খারাপ না। এইযে খবিশ চাংকুগুলাকে দেখেন, দুইটা কাঠি দিয়ে খায়, কেমন বিশ্রী একটা ব্যাপার কাঠি দিয়ে খাওয়া, অথচ এই বিশ্রী ব্যপারটাকেই তারা এখন দুনিয়ার সবচে স্ট্যান্ডার্ড আর্ট বানায়ে ফেলছে! কারণ একটাই নিজেরা খারাপ খারাপ করতে করতে মুখে ফেনা তুলে না ফেলে খারাপটাকে নিয়েই কীভাবে উঠে আসা যায় সেটাই তারা চিন্তা করে। এদের মেয়েদের ট্রেডিশনাল ড্রেসাপ পর্যন্ত দেখেন, এমনভাবে মালকোঁচা মারা, গায়ে দিয়ে হাঁটা যায়না। তিড়িং তিড়িং করে লাফিয়ে লাফিয়ে হাঁটতে হয়। অথচ চাংকু মেয়েদের ট্র্যাডিশনাল ড্রেসাপ এখন এক ধরনের ওয়ার্ল্ডক্লাস ফ্যাশন।

কারে কী বুঝাই। একটা বাংলাদেশী পরিবারের কথা আমি প্রায়ই লিখেছি আগে, ভদ্রলোক বাংলাদেশী গেদারিং-এ এসে পর্যন্ত বাচ্চার সাথে “ইয়েস পাপ্পা” “নো পাপ্পা” “নো টাচিং, ইয়াক্কী পাপ্পা” কথা বলেন। শুনি আর মানুষগুলো ইনফেরিয়রিটি কমপ্লেক্স দেখে বমি পায় আমার। এই ভদ্রলোক যখন ভাল একটা পজিশনে ছিলেন, বাংলাদেশী ছেলেপিলেদেরকে সেই কোম্পানীতে একটা চাকরি দেয়ার জন্য সুপারিশ করাতো দূরের কথা, তিনি থাকা অবস্থায় তার অধীনে কোনো বাংলাদেশী চাকরী পায়নি। এমনটা উদাহরণ একটা না, শ-য়ে শ-য়ে। এবং তার নতুন সংযোজন “বাংলাদেশী থেকে সাবধান” পরিবার। নিজে বাংলাদেশী অথচ বাংলাদেশীদের সম্পর্কে তাদের মনোভাব যেনো বাংলাদেশীরা শুঁয়োপোকা! ছে, পা দিয়ে লাগাতেও যেনো ঘিন্না লাগে। বাংলাদেশীদের সাথে মিশা মানে সময় নষ্ট, বাংলাদেশীরা খালি মুখে মুখে বড় কথা, বাংলাদেশীরা আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করে, বাংলাদেশীরা এই, বাংলাদেশীরা সেই, আরো কত কথাই যে শুনি! অথচ মজার কথা হলো ভদ্রলোক নিজে বাংলাদেশী একটা কম্যুনিটির উঠতি নেতাগোছের মানুষ!! 

হায় আমার দেশের মানুষ, নিজের দেশের মাটি নিয়ে যে/যারা এমন লজ্জাবোধে আক্রান্ত, তারা আর যাই-ই করুক, চাংকু/গ্রীকদের মত যে জীবনেও কোনোদিন জাতিগতভাবে উঠে আসতে পারবেনা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

8 comments:

  1. "জাতিগতভাবে আমাদের দেশের মানুষগুলো সহজ সরল হলেও, এরা অধিকাংশই বজ্জাত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।" --- যথার্থই কহিয়াছো আপুনি। একদম সত্য।

    ReplyDelete
  2. বাংলাদেশী থেকে সাবধান। যারা দেশী ভাইদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, তাদের এরকমই মনে হয়।

    ReplyDelete
  3. আসসালামু আলাইকুম। আপুনিকে এসবিতে পাচ্ছিনা যে!?

    ReplyDelete
  4. Really nice speech. Keep update.

    ReplyDelete
  5. সহমত অ্যামেরিকাতেও একই অবস্থা

    ReplyDelete
  6. সহমত অ্যামেরিকাতেও একই অবস্থা

    ReplyDelete
  7. ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিনে কথাটার প্রমাণ দেখতে পাচ্ছি। আফসোস! আমাদের জাতির লোকজনের চিন্তাধার যদি উন্নত হতো !!

    ReplyDelete

এ যাবত সর্বোচ্চ পঠিত লেখা-

ছড়া-কবিতা নিয়ে কিছু কথা...

এই ব্লগে "ছোটদের জন্য সংগৃহীত ছড়া/কবিতা" লেবেলে যে ছড়া-কবিতাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে (হচ্ছে) তা আমার ছোটভাই ফুয়াদ আমিনের নামে উৎসর্গ করা হলো; যে আমাকে ছড়া বলতে শিখিয়েছিল। যাকে ছড়া শোনাতে শোনাতে নিজেই একসময় ঘুমিয়ে যেতাম! কারেন্ট চলে গেলে আম্মুর রুমে খাটের পাশের জানালা দিয়ে আসা চাঁদের আলোয় যে 'আয় আয় চাঁদ মামা' শুনতে শুনতে চাঁদের দিকে আংগুল তুলে অবাক চোখেমুখে বলতো 'তাদ! তাদ!' চাঁদের বুড়ির চরকি কাটার গল্প শোনা ফুয়াদ অবশেষে একদিন নিজেই কেমন করে যেন চাঁদের দেশে চলে গেলো... ফুয়াদ চলে গেলেও আজকের এবং আগামীর সব শিশুরা চাঁদ, আকাশ, ফুল, পাখি আর ছড়ার মেলায় হুড়াহুড়ি করে বেড়ে উঠুক, এটাই প্রত্যাশা...

ছড়া-কবিতার সংগ্রহে বিশেষ কৃতজ্ঞতায়- তারিক রিদওয়ান, বিবেক, সোহায়লা, জিপসী, তরংগ এম ইসলাম, ভাষ্কর চৌধুরী, তুষার কন্যা, তাহসিনা সাঈদা মুন আপু, সাদিয়া হোসাইন, নাজনীন সুলতানা, মামুন এম আযিয, ওস্তাদের ওস্তাদ, মঈন উদ্দীন জাহিদ, নাজলা আপু, ভবঘুরে ঝড়, আলোর ছটা, রেহনুমা ম্যাডাম, আব্দুল্লাহ মাহমুদ নাজিব, Zareen Firdegar.

অনুরোধঃ ছড়াগুলোতে বানান ভুলের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। ছড়াকারদের নাম পাওয়া যায়নি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। যাদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হয়েছে মূলতঃ তাদের স্মৃতি থেকেই যতটুকু যেভাবে পাওয়া গিয়েছে সেভাবেই এখানে তুলে দেয়া হয়েছে। ভুল বানান চোখে পড়লে, অথবা কোনোটির ছড়াকারের নাম জানা থাকলে কমেন্ট আকারে জানাতে পারেন। অথবা নতুন কোনো ছড়া এই সংগ্রহে দিতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন- jajaborrr@হটমেইলডটকম